লগইন করুন
আমাদের ওয়েবসাইটের সকল সুবিধা পেতে লগইন করুন
আপনার পছন্দের থিম বেছে নিন।

গ্লুকোজ (C6H12O6) একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্করা যা আমাদের শরীরের শক্তির প্রধান উৎস। এক মোল গ্লুকোজকে সম্পূর্ণরূপে পোড়ালে (দহন) 380 কিলোক্যালরি (kcal) শক্তি নির্গত হয়, যা বিভিন্ন পরীক্ষণের মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়েছে। নিচে এর একটি একাডেমিক ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:
দহন একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া, যেখানে গ্লুকোজ অক্সিজেনের (O2) সাথে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) এবং জল (H2O) উৎপন্ন করে। এই প্রক্রিয়ায় তাপ নির্গত হয়। গ্লুকোজের দহন প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ:
C6H12O6 + 6O2 → 6CO2 + 6H2O + শক্তি (380 kcal/mol)
গ্লুকোজ অণুর মধ্যে রাসায়নিক বন্ধনে আবদ্ধ শক্তি দহন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্গত হয়। এই শক্তি মূলত ATP (এডেনোসিন ট্রাইফসফেট) তৈরির কাজে লাগে, যা আমাদের শরীরের বিভিন্ন জৈবিক কার্যাবলী সম্পাদনে সহায়তা করে।
ক্যালোরি হলো তাপের একক। এক গ্রাম জলকে এক ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি করতে যে পরিমাণ তাপের প্রয়োজন হয়, তাকে এক ক্যালোরি বলে। কিলোক্যালোরি (kcal) হলো ক্যালোরির ১০০০ গুণ। খাদ্যশক্তির পরিমাপ কিলোক্যালোরিতে করা হয়।
গ্লুকোজের দহন তাপ বোম্ব ক্যালোরিমিটারের (Bomb calorimeter) মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়। এই যন্ত্রে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ গ্লুকোজকে অতিরিক্ত অক্সিজেনের উপস্থিতিতে সম্পূর্ণরূপে দহন করা হয় এবং উৎপন্ন তাপ পরিমাপ করা হয়।
| উপাদান | মান |
|---|---|
| গ্লুকোজের আণবিক ভর | 180.16 গ্রাম/মোল |
| দহন তাপ (ΔH) | -380 কিলোক্যালরি/মোল (প্রায়) |
| উৎপন্ন গ্যাস | কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) |
| উৎপন্ন তরল | জল (H2O) |
এই মানটি আদর্শ পরিস্থিতিতে পরিমাপ করা হয়েছে। বাস্তব পরিস্থিতিতে কিছু ভিন্নতা দেখা যেতে পারে।
আশা করি, এই ব্যাখ্যাটি গ্লুকোজের দহন এবং নির্গত শক্তি সম্পর্কে আপনার ধারণা স্পষ্ট করতে সহায়ক হবে। 😊