টিউটোরিয়াল / গাইডলাইন অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডাউনলোড
Google Play
GET IT ON Google Play
StudyClub - স্মার্ট স্টাডি প্ল্যাটফর্ম - Study Tracker - App Blocker - Reading Room
মেনু
Self Tracker
Messenger
Question Bank
Study User Report
Session Report
To do list Report
Study Leaderboard
Screen Time Leaderboard
Public Dashboard
Quiz Creator
Quiz Leaderboard
হোম
Profile
About
Tutorials
থিম নির্বাচন

আপনার পছন্দের থিম বেছে নিন।

অ্যামোনিয়াম আয়ন সনাক্তকরণে কোন বিকারক ব্যবহৃত হয়?

A. নেসলার
B. সিলভার নাইট্রেট
C. পটাসিয়াম পাইরো অ্যান্টিমোনেট
D. বেরিয়াম ক্লোরাইট
সঠিক উত্তরঃ A. নেসলার
Explanation:

Another Explanation (5):

অ্যামোনিয়াম আয়ন শনাক্তকরণ: নেসলার বিকারক 🧪

অ্যামোনিয়াম আয়ন (NH₄⁺) শনাক্তকরণের জন্য বহুল ব্যবহৃত একটি বিকারক হলো নেসলার বিকারক। এটি একটি জটিল রাসায়নিক দ্রবণ যা অ্যামোনিয়াম আয়নের সাথে বিক্রিয়া করে সহজেই দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটায়। নিচে এর বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

নেসলার বিকারক কী? 🤔

নেসলার বিকারক হলো পটাশিয়াম টেট্রায়োডোমারকিউরেট(II) (K₂[HgI₄]) এর ক্ষারীয় দ্রবণ। এটি সাধারণত পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH) দ্রবণে মারকিউরিক ক্লোরাইড (HgCl₂) এবং পটাশিয়াম আয়োডাইড (KI) মিশিয়ে প্রস্তুত করা হয়।

কার্যপ্রণালী ⚙️

যখন নেসলার বিকারক অ্যামোনিয়াম আয়নের সাথে মেশানো হয়, তখন এটি প্রথমে অ্যামোনিয়াম আয়োডাইড গঠন করে, যা পরবর্তীতে মারকিউরিক আয়োডাইডের সাথে বিক্রিয়া করে একটি জটিল যৌগ তৈরি করে। এই জটিল যৌগটি দ্রবণে কমলা-বাদামী বর্ণের অধক্ষেপ সৃষ্টি করে। এই অধক্ষেপ দেখেই অ্যামোনিয়াম আয়নের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়।

রাসায়নিক বিক্রিয়া ⚛️

এই বিক্রিয়াটিকে নিম্নলিখিতভাবে প্রকাশ করা যায়:

  1. 2 K₂[HgI₄] + NH₄⁺ + 3 OH⁻ → HgO.Hg(NH₂)I + 4KI + 2 H₂O
  2. অথবা, 2[HgI₄]²⁻ + NH₃ + 3OH⁻ → [Hg₂N]I↓ + 7I⁻ + 3H₂O

এখানে, HgO.Hg(NH₂)I হলো বাদামী বর্ণের অধক্ষেপ।

পর্যবেক্ষণ 👁️‍🗨️

  • অ্যামোনিয়াম আয়নের অল্প ঘনত্বের দ্রবণে, হালকা হলুদ বর্ণের দ্রবণ তৈরি হয়।
  • অ্যামোনিয়াম আয়নের উচ্চ ঘনত্বের দ্রবণে, গাঢ় কমলা-বাদামী বর্ণের অধক্ষেপ দেখা যায়।
  • যদি অ্যামোনিয়া গ্যাসের উপস্থিতি থাকে তবে বিকারকের সাথে সাদা ধোঁয়া উৎপন্ন হতে পারে।

ব্যবহারিক প্রয়োগ 🧪🔬

নেসলার বিকারক নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়:

  1. জলের নমুনায় অ্যামোনিয়ার পরিমাণ নির্ণয়।
  2. রাসায়নিক পরীক্ষাগারে অ্যামোনিয়াম আয়নের উপস্থিতি সনাক্তকরণ।
  3. শিল্প কারখানায় বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রবণে অ্যামোনিয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ।

সতর্কতা ⚠️

নেসলার বিকারক অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে, কারণ এতে মারকিউরি (পারদ) রয়েছে। এটি ব্যবহারের সময় নিম্নলিখিত সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত:

  • বিকারকটি সরাসরি ত্বক বা চোখের সংস্পর্শে আসা থেকে রক্ষা করুন।
  • ব্যবহারের সময় হাতে গ্লাভস এবং চোখে নিরাপত্তা চশমা পরুন।
  • বিকারকটি ভালোভাবে বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে ব্যবহার করুন।
  • ব্যবহারের পর বিকারকটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করুন এবং অপচয় রোধ করুন।

সুবিধা এবং অসুবিধা 👍👎

সুবিধা 👍 অসুবিধা 👎
অ্যামোনিয়াম আয়ন সনাক্তকরণের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। মারকিউরি থাকায় পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
ব্যবহার করা সহজ এবং দ্রুত ফলাফল পাওয়া যায়। অন্যান্য আয়নের উপস্থিতিতে ভুল ফলাফল আসতে পারে।
কম খরচে অ্যামোনিয়াম আয়ন শনাক্ত করা যায়। বিকারকটি আলো এবং বাতাসের সংস্পর্শে এলে কার্যকারিতা হারাতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ ফলাফল 📊

বিভিন্ন দ্রবণে নেসলার বিকারকের সাথে অ্যামোনিয়াম আয়নের বিক্রিয়ার ফলাফল:

  • বিশুদ্ধ জল: কোনো পরিবর্তন নেই (বর্ণহীন)।
  • অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড দ্রবণ (নিম্ন ঘনত্ব): হালকা হলুদ বর্ণ।
  • অ্যামোনিয়াম সালফেট দ্রবণ (উচ্চ ঘনত্ব): গাঢ় কমলা-বাদামী অধক্ষেপ।

আশা করি, এই আলোচনা থেকে নেসলার বিকারক এবং অ্যামোনিয়াম আয়ন সনাক্তকরণ সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন। Happy learning! 📚