লগইন করুন
আমাদের ওয়েবসাইটের সকল সুবিধা পেতে লগইন করুন
আপনার পছন্দের থিম বেছে নিন।
গ্যাসের সান্দ্রতা গুণাঙ্ক তাপমাত্রার-
বর্গমূলের সমানুপাতিক


গ্যাসের সান্দ্রতা গুণাঙ্ক (Coefficient of Viscosity) গ্যাসীয় পদার্থের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। এটি গ্যাসের স্তরগুলোর মধ্যে আপেক্ষিক গতিতে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা নির্দেশ করে। তাপমাত্রা বাড়লে গ্যাসের সান্দ্রতা গুণাঙ্কের পরিবর্তন ঘটে। নিচে এর একটি একাডেমিক ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:
সান্দ্রতা গুণাঙ্ক হলো কোনো প্রবাহীর (তরল বা গ্যাস) অভ্যন্তরীণ ঘর্ষণ বা সান্দ্রতার পরিমাপ। গ্যাসের ক্ষেত্রে, সান্দ্রতা গ্যাসের অণুগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের কারণে ঘটে। যখন গ্যাসের একটি স্তর অন্য স্তরের উপর দিয়ে চলাচল করে, তখন অণুগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ গতির পরিবর্তন ঘটায় এবং সান্দ্রতা সৃষ্টি করে।
গ্যাসের সান্দ্রতা গুণাঙ্ক সাধারণত তাপমাত্রার সাথে বৃদ্ধি পায়। এর কারণ হলো:
গ্যাসের সান্দ্রতা গুণাঙ্ক (η) এবং তাপমাত্রার (T) মধ্যে একটি প্রায়োগিক সম্পর্ক হলো:
η ∝ √T
অর্থাৎ, গ্যাসের সান্দ্রতা গুণাঙ্ক তাপমাত্রার বর্গমূলের সমানুপাতিক।
আণবিক তত্ত্ব অনুসারে, গ্যাসের সান্দ্রতা নিম্নলিখিত কারণগুলোর উপর নির্ভরশীল:
এই বিষয়গুলোর উপর ভিত্তি করে সান্দ্রতার একটি সাধারণ সূত্র দেওয়া যায়:
η = (1/3) * n * m * v * l
এখানে, l হলো গড় মুক্ত পথ (mean free path), অর্থাৎ দুটি সংঘর্ষের মধ্যে অণু কর্তৃক অতিক্রান্ত গড় দূরত্ব।
বিভিন্ন গ্যাসের সান্দ্রতা এবং তাপমাত্রার সম্পর্ক একটি ছকের মাধ্যমে দেখানো হলো:
| গ্যাস | 20°C তাপমাত্রায় সান্দ্রতা (μPa·s) | 100°C তাপমাত্রায় সান্দ্রতা (μPa·s) |
|---|---|---|
| নাইট্রোজেন (N₂) | 17.6 | 21.8 |
| অক্সিজেন (O₂) | 20.4 | 25.4 |
| কার্বন ডাই অক্সাইড (CO₂) | 14.8 | 20.2 |
গ্যাসের সান্দ্রতা এবং তাপমাত্রার সম্পর্ক বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকটি উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো:
পরিশেষে বলা যায়, গ্যাসের সান্দ্রতা গুণাঙ্ক তাপমাত্রার বর্গমূলের সমানুপাতিক। তাপমাত্রা বাড়লে গ্যাসের অণুগুলোর গতি বৃদ্ধি পায়, সংঘর্ষের হার বাড়ে এবং সান্দ্রতাও বৃদ্ধি পায়। এই সম্পর্ক বিভিন্ন ব্যবহারিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 🥳