Another Explanation (5):
নেমাটোডা পর্বের প্রাণীদের সিউডোসিলোমেট বলার কারণ
নেমাটোডা পর্বের প্রাণীদের সিউডোসিলোমেট বা অপ্রকৃত দেহগহ্বরী বলা হয়। এর কারণ হল:
সিউডোসিলোম কী? 🤔
সিউডোসিলোম হলো এমন একটি দেহগহ্বর যা মেসোডার্ম (mesoderm) নামক ভ্রূণীয় কোষস্তর দ্বারা সম্পূর্ণরূপে আবৃত থাকে না। প্রকৃত সিলোমেট প্রাণীদের দেহগহ্বর মেসোডার্ম দিয়ে আবৃত থাকে।
নেমাটোডার ক্ষেত্রে ঘটনাটি কী ঘটে? 🧐
- নেমাটোডার দেহগহ্বর ব্লাস্টোসিল (blastocoel) থেকে তৈরি হয়।
- এই গহ্বরের চারদিকে মেসোডার্মের একটি আস্তরণ থাকে, কিন্তু এটি সম্পূর্ণরূপে পরিবেষ্টিত নয়।
- একদিকে থাকে এন্ডোডার্ম (endoderm) এবং অন্য দিকে থাকে একটোডার্ম (ectoderm)। মেসোডার্ম স্তরের কোষগুলো এই গহ্বরের প্রাচীর তৈরি করে না।
- এ কারণে নেমাটোডার দেহগহ্বরকে প্রকৃত সিলোম বলা যায় না।
বৈশিষ্ট্যসমূহ 📝
- দেহ নলাকার এবং খণ্ডবিহীন 🐛।
- ত্বক পুরু কিউটিকল (cuticle) দ্বারা আবৃত।
- পৌষ্টিকনালী সম্পূর্ণ, মুখ ও পায়ু ছিদ্র বিদ্যমান।
- রেচনতন্ত্র সরল প্রকৃতির।
- শ্বাসতন্ত্র ও সংবহনতন্ত্র অনুপস্থিত।
- সাধারণত এরা উভলিঙ্গ অথবা একলিঙ্গ হয়।
তুলনামূলক চিত্র 📊
| বৈশিষ্ট্য |
সিউডোসিলোম (নেমাটোডা) |
প্রকৃত সিলোম |
| উৎপত্তি |
ব্লাস্টোসিল থেকে |
মেসোডার্ম থেকে |
| মেসোডার্মের আবরণ |
অসম্পূর্ণ |
সম্পূর্ণ |
| উদাহরণ |
গোলকৃমি (roundworm) |
কেঁচো (earthworm) |
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী ✅
- সিউডোসিলোম থাকার কারণে নেমাটোডার অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো সহজে নড়াচড়া করতে পারে।
- এটি কঙ্কাল হিসেবে কাজ করে চলনে সাহায্য করে।
- বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলী সম্পাদনেও এটি ভূমিকা রাখে।
এসব কারণেই নেমাটোডা পর্বের প্রাণীদের সিউডোসিলোমেট বলা হয়। 🧬
আরো জানতে 🤔 উইকিপিডিয়া দেখুন। 📚
আশা করি, বিষয়টি বোধগম্য হয়েছে।😊