লগইন করুন
আমাদের ওয়েবসাইটের সকল সুবিধা পেতে লগইন করুন
আপনার পছন্দের থিম বেছে নিন।

আলোক তরঙ্গ তত্ত্ব আলোকের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মডেল। এই তত্ত্ব অনুসারে, আলো এক প্রকার তরঙ্গ এবং এটি তরঙ্গ ধর্ম প্রদর্শন করে। কিন্তু কিছু ঘটনা আছে যা এই তত্ত্বের মাধ্যমে সম্পূর্ণরূপে ব্যাখ্যা করা যায় না। তার মধ্যে অন্যতম হলো ফটোতড়িৎ নিঃসরণ।
ফটোতড়িৎ নিঃসরণ হলো একটি ঘটনা যেখানে কোনো ধাতব ???ৃষ্ঠে আলো পড়লে সেই ধাতু থেকে ইলেকট্রন নির্গত হয়। এই নির্গত ইলেকট্রনগুলোকে ফোটোইলেকট্রন বলা হয়।
আলোক তরঙ্গ তত্ত্ব অনুসারে, আলোর শক্তি তার তীব্রতার উপর নির্ভরশীল। যদি আলোর তীব্রতা যথেষ্ট বেশি হয়, তাহলে যেকোনো কম্পাঙ্কের আলো থেকেই ইলেকট্রন নির্গত হওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, একটি নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের নিচে আলো পড়লে কোনো ইলেকট্রন নির্গত হয় না, তা যতই তীব্র হোক না কেন।
অন্যদিকে, তরঙ্গ তত্ত্ব অনুযায়ী, আলোর তীব্রতা বাড়ালে নির্গত ইলেকট্রনের গতিশক্তিও বাড়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, তীব্রতা বাড়ালে কেবল ইলেকট্রনের সংখ্যা বাড়ে, গতিশক্তি নয়।
এছাড়াও, তরঙ্গ তত্ত্ব অনুযায়ী, আলোকরশ্মি ধাতব পৃষ্ঠে পড়ার পরে ইলেকট্রন নির্গত হতে কিছু সময় লাগা উচিত, কারণ ইলেকট্রনকে যথেষ্ট শক্তি শোষণ করতে হয়। কিন্তু বাস্তবে ইলেকট্রন প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে নির্গত হয়।
| বিষয় | আলোক তরঙ্গ তত্ত্বের ভবিষ্যদ্বাণী | বাস্তব পর্যবেক্ষণ (ফটোতড়িৎ নিঃসরণ) |
|---|---|---|
| ইলেকট্রন নিঃসরণের জন্য প্রয়োজনীয় আলো | যেকোনো কম্পাঙ্কের আলো, যদি তীব্রতা যথেষ্ট বেশি হয় | একটি নির্দিষ্ট সর্বনিম্ন কম্পাঙ্ক (threshold frequency) প্রয়োজন |
| আলোর তীব্রতার প্রভাব | তীব্রতা বাড়লে ইলেকট্রনের গতিশক্তি বাড়বে | তীব্রতা বাড়লে নির্গত ইলেকট্রনের সংখ্যা বাড়ে, গতিশক্তি নয় |
| সময় ব্যবধান | ইলেকট্রন নির্গত হতে সময় লাগা উচিত | ইলেকট্রন প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে নির্গত হয় |
ফটোতড়িৎ নিঃসরণের বৈশিষ্ট্যগুলো আলোক তরঙ্গ তত্ত্বের সাথে সাংঘর্ষিক। এই কারণে, শুধুমাত্র তরঙ্গ তত্ত্বের সাহায্যে এই ঘটনাটি সম্পূর্ণরূপে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। পরবর্তীতে, আইনস্টাইনের আলোর কণা তত্ত্ব (ফোটন তত্ত্ব) এই সমস্যার সমাধান করে এবং ফটোতড়িৎ নিঃসরণের সঠিক ব্যাখ্যা দেয়। তাই বলা যায়, আলোক তরঙ্গ তত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা হলো ফটোতড়িৎ নিঃসরণ ব্যাখ্যা করতে না পারা।
আরও জানতে ভিজিট করুন: উইকিপিডিয়া 📚
```