Another Explanation (5): অদর্শ গ্যাসের আচরণ থেকে বিচ্যুতির ক্রম নির্ণয় করার জন্য আমাদের গ্যাসের মৌলিক বৈশিষ্ট্যগুলো বিবেচনা করতে হবে। মূলত, গ্যাসের আচরণ আদর্শ গ্যাসের কাছাকাছি থাকলে বিচ্যুতি কম হয় এবং যত বেশি বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হবে, বিচ্যুতি তত বেশি হবে।
প্রধান কারণগুলো হলো:
1. **আণবিক ভর (Molecular weight):** কম অণবিক ভর থাকলে গ্যাসের গঠন বেশি হালকা হয় এবং এর আচরণ আদর্শের কাছাকাছি হয়।
2. **আণবিক গঠন ও আণবিক শক্তি:** যেখানে ইন্টারঅ্যাকশন কম, সেখানে গ্যাসের আচরণ আদর্শের কাছাকাছি থাকে।
3. **আণবিক গঠন:** গ্যাসের আণবিক গঠন যত জটিল বা বড় হবে, তত বেশি বিচ্যুতি হবে।
এখন, প্রশ্নে দেওয়া গ্যাসগুলো হল: H₂, N₂, CO₂, NH₃। এই গ্যাসগুলোর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী:
- **H₂ (হাইড্রোজেন):** এটি ছোট আণবিক ভর ও সহজ গঠন সম্পন্ন গ্যাস। ইন্টারঅ্যাকশন খুব কম হওয়ায় এর আচরণ আদর্শের কাছাকাছি। বিচ্যুতি কম।
- **N₂ (নাইট্রোজেন):** কিছুটা বড় আণবিক ভর এবং কিছু ইন্টারঅ্যাকশন থাকলেও, এটি এখনও খুব বেশি বিচ্যুত হয় না। বিচ্যুতি H₂ এর পরে।
- **CO₂ (কার্বন ডাইঅক্সাইড):** বড় আণবিক ভর ও দ্বৈত বন্ধনের কারণে ইন্টারঅ্যাকশন বেশি। বিচ্যুতি বেশি।
- **NH₃ (অ্যামোনিয়া):** এর জলীয় আণবিক গঠন ও ডাইপোল ইন্টারঅ্যাকশনের কারণে, এটি অন্যান্য গ্যাসের তুলনায় বেশি বিচ্যুত হয়।
অতএব, এই গ্যাসগুলোর বিচ্যুতির ক্রম হবে:
**H₂ < N₂ < CO₂ < NH₃**
এবং এই ক্রমটি উপযুক্ত কারণ প্রতিটি গ্যাসের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বিচ্যুতির পরিমাণ বাড়ছে বা কমছে।