Another Explanation (5):
আয়নিক এবং পারমাণবিক ব্যাসার্ধের ক্রম: Mg2+ < Na+ < Ne
আয়নিক এবং পারমাণবিক ব্যাসার্ধের ক্রম আলোচনা করতে হলে প্রথমে আমাদের কয়েকটি বিষয় জানতে হবে। নিচে বিষয়গুলো আলোচনা করা হলো:
- নিউক্লিয়ার চার্জ (Nuclear Charge): নিউক্লিয়াসে প্রোটনের সংখ্যা যত বেশি, নিউক্লিয়ার চার্জ তত বেশি।
- ইলেকট্রন সংখ্যা: কোনো আয়ন বা পরমাণুতে ইলেকট্রনের সংখ্যা।
- কার্যকরী নিউক্লিয়ার চার্জ (Effective Nuclear Charge): ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ কতটা অনুভব করে, তা হলো কার্যকরী নিউক্লিয়ার চার্জ। ভেতরের দিকের ইলেকট্রনগুলো বাইরের ইলেকট্রনগুলোর উপর একটি শিল্ড বা পর্দা তৈরি করে, তাই বাইরের ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসের পুরো আকর্ষণ অনুভব করতে পারে না।
ব্যাসার্ধের ক্রমের ব্যাখ্যা
এখানে ম্যাগনেসিয়াম আয়ন (Mg
2+), সোডিয়াম আয়ন (Na
+), এবং নিয়ন (Ne) এর ব্যাসার্ধের ক্রম দেওয়া আছে: Mg
2+ < Na
+ < Ne
| আয়ন/মৌল |
প্রোটন সংখ্যা |
ইলেকট্রন সংখ্যা |
কার্যকরী নিউক্লিয়ার চার্জ |
ব্যাসার্ধ (pm) |
| Mg2+ |
12 |
10 |
বেশি 😃 |
72 |
| Na+ |
11 |
10 |
মাঝারি 🙂 |
102 |
| Ne |
10 |
10 |
কম 😥 |
154 |
ব্যাখ্যা:
- Mg2+ (ম্যাগনেসিয়াম আয়ন): ম্যাগনেসিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা 12, অর্থাৎ এতে 12টি প্রোটন আছে। Mg2+ আয়ন তৈরি হওয়ার পরে এর ইলেকট্রন সংখ্যা দাঁড়ায় 10। প্রোটন সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ বেশি থাকে এবং ইলেকট্রন মেঘ ভেতরের দিকে সংকুচিত হয়। ফলে ব্যাসার্ধ ছোট হয়। 🤏
- Na+ (সোডিয়াম আয়ন): সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা 11, তাই এতে 11টি প্রোটন আছে। Na+ আয়ন তৈরি হওয়ার পরে এর ইলেকট্রন সংখ্যা 10। ম্যাগনেসিয়ামের তুলনায় এর নিউক্লিয়ার চার্জ কম, তাই ইলেকট্রন মেঘ তুলনামূলকভাবে কম সংকুচিত হয়। ফলে ব্যাসার্ধ Mg2+ এর থেকে কিছুটা বড় হয়।
- Ne (নিয়ন): নিয়নের পারমাণবিক সংখ্যা 10, এবং এটি একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস। এর ইলেকট্রন সংখ্যাও 10। যেহেতু এটি কোনো আয়ন নয়, তাই এর নিউক্লিয়ার চার্জ Mg2+ এবং Na+ এর তুলনায় কম। ফলে ইলেকট্রন মেঘ সবচেয়ে কম সংকুচিত হয় এবং ব্যাসার্ধ সবচেয়ে বড় হয়। 🥳
💡সারমর্ম: একই সংখ্যক ইলেকট্রন (আইসোইলেকট্রনিক) বিশিষ্ট আয়নগুলোর মধ্যে, যেটির প্রোটন সংখ্যা যত বেশি, তার ব্যাসার্ধ তত ছোট।
আশা করি, এই ব্যাখ্যা থেকে আয়নসমূহের ব্যাসার্ধের ক্রম সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়া গেছে। 😇