লগইন করুন
আমাদের ওয়েবসাইটের সকল সুবিধা পেতে লগইন করুন
আপনার পছন্দের থিম বেছে নিন।
শব্দের উপরিপাতন (Superposition) নীতির উপর ভিত্তি করে স্বরকম্প (Beats) নামক ঘটনাটি ব্যাখ্যা করা যায়। নিচে এর বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
উপরিপাতন নীতি অনুসারে, যখন একাধিক তরঙ্গ (wave) একই স্থানে মিলিত হয়, তখন ঐ স্থানের লব্ধি সরণ প্রতিটি তরঙ্গের পৃথক সরণের বীজগাণিতিক যোগফলের সমান হয়। অর্থাৎ, দুটি তরঙ্গ যদি একই সময়ে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে পৌঁছায়, তবে তাদের সম্মিলিত প্রভাব হবে তাদের পৃথক প্রভাবের যোগফল।
স্বরকম্প হলো দুটি প্রায় সমান কম্পাঙ্কের শব্দের উপরিপাতনের ফলে শব্দের তীব্রতার পর্যায়ক্রমিক হ্রাস-বৃদ্ধি। যখন সামান্য ভিন্ন কম্পাঙ্কের দুটি শব্দ একসাথে শোনা যায়, তখন শব্দটির তীব্রতা নিয়মিতভাবে বাড়ে ও কমে। এই তীব্রতার পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তনই হলো স্বরকম্প।
স্বরকম্পের কম্পাঙ্ক হলো প্রতি সেকেন্ডে তীব্রতা পরিবর্তনের সংখ্যা। একে নির্ণয় করা হয়:
fbeat = |f1 - f2|
অর্থাৎ, স্বরকম্পের কম্পাঙ্ক হলো দুটি শব্দের কম্পাঙ্কের পার্থক্যের পরম মানের সমান।
উপরিপাতন নীতি অনুযায়ী, দুটি ভিন্ন কম্পা??্কের শব্দ মিলিত হয়ে একটি নতুন তরঙ্গ তৈরি করে। এই নতুন তরঙ্গের বিস্তার (amplitude) সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়। যখন বিস্তার বাড়ে, তখন শব্দ জোরে শোনা যায় এবং যখন বিস্তার কমে, তখন শব্দ ক্ষীণ শোনা যায়। এই বিস্তার পরিবর্তনের হারই স্বরকম্পের কম্পাঙ্ক নির্ধারণ করে।
নিচের টেবিলের মাধ্যমে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা হলো:
| সময় | তরঙ্গ ১ (f1) | তরঙ্গ ২ (f2) | লব্ধি তরঙ্গ | তীব্রতা |
|---|---|---|---|---|
| t1 | শীর্ষ ⬆️ | শীর্ষ ⬆️ | বৃহত্তম শীর্ষ ⬆️⬆️ | সর্বোচ্চ 🔊 |
| t2 | পাদ ⬇️ | পাদ ⬇️ | বৃহত্তম পাদ ⬇️⬇️ | সর্বোচ্চ 🔊 |
| t3 | শীর্ষ ⬆️ | পাদ ⬇️ | প্রায় শূন্য ➖ | নMinimum 🔇 |
সুতরাং, এটা স্পষ্ট যে শব্দের উপরিপাতন নীতির মাধ্যমেই স্বরকম্পের বিষয়টি সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। ✅